ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
টার্গেট ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

ভোটের মাঠে জোটের সমীকরণ

  • আপলোড সময় : ১৯-০২-২০২৫ ০১:২৮:১৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-০২-২০২৫ ০১:২৮:১৮ অপরাহ্ন
ভোটের মাঠে জোটের সমীকরণ
* এক বাক্সে ভোট নিতে ডান-বাম ও ইসলামপন্থি দলকে কাছে টানছে বিএনপি * নির্বাচনের আগে জোট গঠনে তৎপরতা শুরু করেছে জামায়াত * নির্বাচন ঘিরে দুই ধরনের মেরুকরণ থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে বিএনপি-জামায়াতসহ ডান-বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নতুন হিসাব-নিকাশ। নিজ নিজ অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে আগাম প্রস্তুতি হিসাবে ডান-বাম ও ইসলামি দলগুলোকে কাছে টানতে তৎপরতা চালাচ্ছে দীর্ঘ ১৮ বছর নির্যাতন-নীপিড়নের শিকার এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা দল বিএনপি। বসে নেই বিএনপির একসময়ের অন্যতম জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও। তবে বিএনপির তৎপরতা আছে, ২০১৮ সালের স্টাইলে মিত্রদের ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নেয়া। অর্থাৎ দু’দলই ভোটের মাঠে ‘এক বাক্স’ থাকার বিষয়ে বেশ তৎপর। তবে রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই জানিয়ে দলগুলোর নেতারা বলেন, এখন যে যার মতো তৎপরতা চালাচ্ছেন। নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হলে অনেক চিত্রই পালটে যাবে। এমনও হতে পারে-বিএনপি-জামায়াত-ছাত্রনেতাদের নতুন দলসহ মিত্ররা একসঙ্গে থাকবে। সবকিছু নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের ভোটে আসা না আসার ওপর। সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা মনে করছেন, গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত (সাবেক) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর আওয়ামী লীগের থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারাও এখন আত্মগোপনে রয়েছে। তাছাড়া ত্রয়োদ্বশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোটে থাকতে পারবে না। এই সুযোগে আলাদা বলয় গড়ে তুলার চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের ধারণা, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিকল্প রাজনীতিক দল হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে থাকবে এবং আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে দ্বিধাবোধ করবে না। একই ধারনা পোষন করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাও। ফলে আওয়ামী লীগসহ অন্য রাজনীতিক দলগুলোর ভোট একই বাক্সে নিতে রীতিমতো টানাটানি শুরু করেছে বিএনপি-জামায়াত। তবে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর জোট না মঞ্চ, নাকি সমঝোতা-সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দলগুলো। তবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট বিগত দিনে ওই সরকারে যুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট বা সমাঝোতার কোনো চিন্তা নেই বিএনপি ও জামায়াতের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারবে কিনা তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিএনপি দেশের এখন অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল। এই দলটি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে ‘জাতীয় সরকার’ হবে। সেখানে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ বিগত আন্দোলনে যেসব দল রাজপথে ছিল, তাদের সবাইকে এই জাতীয় সরকারে নেয়া হবে। এক্ষেত্রে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো চাইবে বিএনপির সঙ্গে থাকতে। আবার জামায়াতে ইসলামীও মাঠে বেশ সক্রিয়। কিন্তু বিগত নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় জামায়াতের ভোট কিন্তু তেমন বাড়েনি। তবে বর্তমান বাস্তবতায় দলটির ভোট হয়তো বেড়েছে। মতাদর্শিক দূরত্বের কারণে অন্য ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে জোট বা সমঝোতা হবে কিনা তাও একটা বিষয়। তবে ছাত্রদের নতুন দল হলে এবং তাদের সঙ্গে যদি জামায়াত জোট করতে পারে তাহলে ভোট বাড়বে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ন্যূনতম সংস্কার শেষে অতি দ্রুত একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করে বাংলাদেশের মানুষকে সংকট থেকে মুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই বিএনপির সুসম্পর্ক রয়েছে। আগামী নির্বাচন একক নাকি জোটগতভাবে-এটা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। নির্বাচন এলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়, তারপর সিদ্ধান্ত হয়। তবে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, কারও সঙ্গেই বিরোধ নেই। ইসলামি দলের জোটের আলাপ আছে। জোট কেমন হবে, তা নির্বাচনি আবহ শুরু হলে স্পষ্ট হবে। শুধু ইসলামী দল নয়, ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির সঙ্গে ঐক্য চায় জামায়াত। জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরকে নির্বাচনের বছর মাথায় রেখে দেশের রাজনীতিতে ক্রমেই সরব হচ্ছে জোটের আলোচনা। কে কাকে নিজেদের জোটে ভেড়াবে অথবা অন্য জোটের কাছ থেকে সরিয়ে দেবে, এই সমীকরণ ধীরে হলেও দানা বাঁধতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বিএনপির জোটকেন্দ্রিক সজাগ ও সক্রিয় গতিবিধি লক্ষ করা যাচ্ছে। যেভাবে তারা এগোচ্ছে তাতে জোট বদলের খেলা এবার বেশ জমে উঠবে। এ খেলার দুই কারিগরই দীর্ঘ ১৮ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনীতিক দল বিএনপি-জামায়াত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত দলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক ও যোগাযোগ বাড়িয়েছে। তবে তাদের গলার কাঁটা হতে পারে ছাত্র নেতৃত্বের সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির নতুন রাজনৈতিক দল। বিএনপি ও জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতা জানান, ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট গঠন নিয়েই তারা বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। জোট বা মঞ্চ যে নামেই তা গঠন হতে পারে। সেক্ষেত্রে জামায়াত চেষ্টা করছে একটি আসনে ইসলামি দলগুলোর একজন প্রার্থী থাকবে। আবার বিএনপির তৎপরতা আছে, ২০১৮ সালের স্টাইলে মিত্রদের ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নেয়া। অর্থাৎ দু’দলই ভোটের মাঠে ‘এক বাক্স’ থাকার বিষয়ে বেশ তৎপর। তবে রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই জানিয়ে দলগুলোর নেতারা বলেন, এখন যে যার মতো তৎপরতা চালাচ্ছেন। নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হলে অনেক চিত্রই পালটে যাবে। এমনও হতে পারে-বিএনপি-জামায়াত-ছাত্রনেতাদের নতুন দলসহ মিত্ররা একসঙ্গে থাকবে। সবকিছু নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের ভোটে আসা না আসার ওপর। সূত্রমতে, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ফোরামেও ভোটের হিসাবসহ নানা বিশ্লেষণ কষতে শুরু করেছে। কোন দলের সঙ্গে জোট বা সম্পর্ক রাখলে আগামী নির্বাচনে সুবিধা হবে সে আলোচনা চলছে দলগুলোর মধ্যে। ছোট ছোট রাজনীতিক দলের নেতারা জানান, সামনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হবে। তাদের ধারণা বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলে রাজনৈতিক চিত্র পালটে যাবে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যদি নির্বাচনি মাঠে ভার্চুয়ালি বক্তব্যও দেন, এখনকার চিত্র আর তখনকার চিত্র এক থাকবে না। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সামনের দিনগুলোকে মূল্যায়ন করতে চান না তারা। কারণ সামনে বিএনপির এই শীর্ষ দুই নেতা দেশের রাজনীতিতে এখন অনেক জনপ্রিয়-এটি মাথায় রাখতে চান। তাই এখনই নয়, নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে চান। ডান-বাম ও ইসলামি দলগুলোকে সঙ্গে রাখতে চায় বিএনপি : ২০ দলীয় জোট ভেঙে যাওয়ার পরও মিত্রদের নিয়েই আন্দোলন করেছে বিএনপি। এখনো ৬ দলীয় গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, এলডিপি, ১১ দলীয় জাতীয়তাবাদী জোট, চার দলীয় গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি (পার্থ), এনডিএম, লেবার পার্টিসহ নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত অন্তত ৫২ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে বিএনপির। নানা ইস্যুতে বিভিন্ন সময় তাদের সঙ্গে বৈঠকও করছে দলটি। পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করছে। ইতোমধ্যে মিত্র দলের ৬ শীর্ষ নেতার সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি আসনে স্থানীয় নেতাকর্মীকে চিঠি দিয়ে সহায়তার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। এরকম আরও কয়েকজনকে মৌখিকভাবে নিজ আসনে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি খেলাফত মজলিসও বিএনপির আমন্ত্রণে গুলশান কার্যালয়ে যায়। দ্রুত নির্বাচনসহ সাত দাবিতে ঐকমত্য পোষণ করে। শিগগিরই মাওলানা মামুনুল হকের খেলাফতকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা রয়েছে। সম্পর্ক উন্নয়নে গত সোমবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পিরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির বেশ কয়েতজন নীতিনির্ধারক জানান, বিএনপি চায় সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ থাকুক। সেই কাজটিই তারা করছেন। নির্বাচনে জোট গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রেখেই চলতে চায়। নির্বাচন অনুষ্ঠানের তফশিল হলে জোট করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে মিত্রদের ধানের শীষ প্রতীকেই নির্বাচন করার বিষয়টি আসতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, বিএনপি ও ছাত্রনেতারা এমনকি নির্বাচনকেন্দ্রিক বৃহত্তর সমঝোতার বিষয়েও অনাগ্রহী নন (এর ধরন ও ফর্মুলা আলোচনা সাপেক্ষ)। এ বিষয়টিও বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সেক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে মিত্রদের তালিকায় ছাত্রদের নতুন দলও আসতে পারে। নতুন চমক দিয়েই এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। ইসলামি দলগুলোকে একসঙ্গে চায় জামায়াত : ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ১৫ আগস্ট থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক শুরু করে। এর মধ্যে চরমোনাই পিরের ইসলামী আন্দোলন, ১২ দলীয় জোট, জাকের পার্টি, লেবার পার্টি, খেলাফত মজলিস ও ফরায়েজী আন্দোলন উল্লেখযোগ্য। এছাড়া খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, হেফাজতে ইসলামের যুগ্মমহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতাহারী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ) আমির আবু জাফর কাসেমী, জামিয়া মাদানিয়ার মুহতামিম মনিরুজ্জামান কাসেমী, জনসেবা আন্দোলনের আমির ফখরুল ইসলামসহ ব্যক্তিপর্যায়ে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক ও আলেমদের সঙ্গে জামায়াতের আমির পৃথক মতবিনিময় করেন। এসব মতবিনিময়ে অংশ নেয়া একাধিক দলের নেতা জানিয়েছেন, ইসলামপন্থিদের মধ্যে একটি ঐক্য চায় জামায়াত, বিশেষ করে নির্বাচনি ঐক্য বা সমঝোতা। এ লক্ষ্যে জামায়াত ইতোমধ্যে ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে একটি যোগাযোগের সম্পর্ক তৈরি করেছে। এর মধ্য দিয়ে কার্যত কওমি ধারার আলেমদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের যে বিরোধ বা বিতর্ক, সেটি কমেছে। সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীর প্রতিষ্ঠা করা জামায়াতের সঙ্গে অন্যদের আকিদাগত মতপার্থক্য আছে। আর এটিই বৃহত্তর ঐক্যের পেছনে বড় বাধা বলেও মনে করছে অনেক দল। জামায়াত নেতারা মনে করছেন, ইসলামি দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনি ঐক্য হবে কিনা, সেটি নির্ভর করছে চরমোনাই পিরের দল ইসলামী আন্দোলনের ওপর। জামায়াতের পর ইসলামপন্থিদের সমর্থনের দিক থেকে এ দলটিকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। তবে সম্প্রতি ২১ জানুয়ারি বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই মাদ্রাসা ও পিরের দরবার পরিদর্শনে যান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে চরমোনাই মাদ্রাসায় জামায়াত আমির ও চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। জনগণের প্রত্যাশা-নির্বাচনের সব কেন্দ্রে ইসলামি দলগুলোর যেন একটা বাক্স থাকে এর ওপর জোর দেন। এরপর থেকে এ দু’দলের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে ডালপালা মেলেছে। খেলাফতের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, বিএনপির ডাকে বৈঠকে গেলেও ইসলামি দলগুলো জোট গঠন প্রচেষ্টা থেকে সরে দাঁড়াইনি। বিএনপির সঙ্গে কথা হয়েছে জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে। আগামী নির্বাচনে ইসলামি দলগুলোর প্রতীক ভিন্ন হলেও প্রতি আসনে একক প্রার্থী রাখার চেষ্টা রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনকে নিয়ে টানাটানিতে বিএনপি-জামায়াত : বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জন করে করেছিল চরমোনাই পিরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও। জুলাই অভ্যুত্থানেও মাঠে ছিল দলটি। ভোটের হিসাবে ইসলামী আন্দোলনের নির্দিষ্ট একটি ভোটব্যাংকও রয়েছে। তাই এ দলটির দিকে দৃষ্টি রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের। ২১ জানুয়ারি বরিশালে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সাক্ষাৎ করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সঙ্গে। পরে একসঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন রাজনৈতিক অঙ্গনে চমক সৃষ্টি করে। জামায়াতের পর সম্প্রতি পল্টনের ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চরমোনাই পিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, দেশ, মানবতা এবং রাজনীতির ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমাদের দু’দলের মধ্যে আলোচনা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে। ধর্মভিত্তিক দলগুলো ও আলেমদের মধ্যে নানা মতবিরোধ: বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ঐক্য বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলো ও আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য ইসলামিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা বহুবার করলেও কিছু বিতর্কিত বিষয় সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবুল আলা মওদুদীর ‘আক্বিদা’ নিয়ে অনেক কওমী ঘরানার আলেমের ক্ষোভ রয়েছে। এ কারণে এখনো জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করার ব্যাপারে ধর্মভিত্তিক দলগুলো সাবধানী অবস্থানে রয়েছে। ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিসহ কয়েকটি দল জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যকে সমর্থন করছে না। এ কাতারে আছে হেফাজতে ইসলামও। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘এক প্ল্যাটফর্মে আনার যে চেষ্টা জামায়াতের তাতে হেফাজতসহ আরো কয়েকটি সংগঠন ও দলের যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত ছিল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের বিভিন্ন বক্তব্যেও। তিনি হেফাজতেরও নেতা। তবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর বক্তব্যে ঐক্যের বিষয়টি থমকে যায়। গত ২৫ অক্টোবর ফেনী মিজান ময়দানে দেয়া এক বক্তব্যে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামকে ইসলামী দল মনে করি না। জামায়াতে ইসলাম মদিনার ইসলাম চায় না, তারা মওদুদীর ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ সমস্যা যে শুধুমাত্র এবারই হয়েছে, তা নয়। ১৯৮১ সালে মাওলানা মোহাম্মদউল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর যখন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হন তখনো জামায়াতের সমর্থন অগ্রাহ্য করেছেন তিনি। হাফেজ্জী হুজুর জামায়াতকে মওদুদীর ‘ভ্রান্ত আক্বিদা’ সংশোধন করে সেটির সংবাদও প্রকাশের কথা বলেন। তাতে জামায়াত সাড়া দেয়নি। প্রায় ৪৪ বছর ধরে জামায়াতের সঙ্গে অন্য ধর্মভিত্তিক দলগুলোর দূরত্বের আরেক কারণ একাত্তরে দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে আমাদের যে পার্থক্য সেটা হচ্ছে পথের পার্থক্য। ইসলামের কোনো মৌলিক বিষয়ে না। শরিয়তের বেসিক বিষয় তথা নামাজ, রোজা, হজ্জ, আল্লাহ, কেয়ামত প্রসঙ্গে কারো কোন ভিন্নতা নাই। ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ বলেন, ইসলাম, দেশ এবং মানবতার পক্ষে যারা, তাদের সঙ্গে কাজে আপত্তি নেই। বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি। এতে ইসলামী জোট গঠন এগিয়ে নেয়া থেমে থাকবে না। খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেন, আমরা যেটা চাচ্ছি, সকল দলগুলোর মধ্যে একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং করে একজন প্রার্থী। আমরা মনে করি, সকল ইসলামপন্থি দল মিলে একটি আসনে একজন প্রার্থী দেয়া গেলে ভালো ফল আসবে। এ বিষয়ে জামায়াত একমত। ইসলামী আন্দোলন একমত। আমরাও একমত। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ফ্যাসিস্ট বিরোধী যেসব ইসলামী দল রয়েছে, যারা ছাত্র-জনতার বিপ্লবে অংশীদার ছিলেন এরকম সব দলের সাথে ন্যূনতম ইস্যুতে ঐক্য হবে। তিনি বলেন, আপনারা জানেন, শেখ হাসিনার পতনে গড়ে উঠা আন্দোলনে বিভিন্ন ইসলামিক দল তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্দোলন করেছে, যুগপৎভাবে একই কর্মসূচি দিয়ে তা রাজপথে থেকে বাস্তবায়ন করেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স